শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ -মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা

প্রকাশ : 19 Sep 2026
শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ -মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা

স্টাফ রিপোর্টার: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৮০৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে জমকালো আয়োজনে ক্রেস্ট ও গাছের চারা দিয়ে সংবর্ধনা দিয়েছে রাজধানীর ডেমরার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডেমরায় শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যে অভিনন্দন জানান এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অগ্রগতির চিত্র, এলাকার জলাবদ্ধতা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, একটি বড় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের রাস্তা, ড্রেন ও জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকতে পারে না। এসব সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা করে কাজ করা হবে। আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উপায় ঠিক করা হবে। তিনি বলেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একটি সুন্দর প্রতিষ্ঠান এখানে আছে, আর এলাকার রাস্তাটা সুন্দর হবে না—এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। আমরা এই রাস্তা করে দেব, ড্রেনও ঠিক করে দেব। তবে জলাবদ্ধতা দূর করতে খালগুলোরও ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও আইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে পরিকল্পনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএনডি প্রকল্পের আওতাধীন খালের কাজ দ্রুত টেন্ডারের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, একটি ভাঙা বেড়াগড় থেকে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে শিক্ষার্থী ছিল ১২০ জন। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। ছয়-সাততলা ভবনসহ প্রতিষ্ঠানটি আজ বড় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই সাফল্যের ইতিহাস আরও দীর্ঘ হোক বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ দেশের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বায়ুদূষণ কমাতে সবাইকে গাছ লাগাতে হবে। প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রাস্তায় টিস্যু, কাগজ বা আবর্জনা না ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে স্কাউটিং, ডিবেট ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব ও নাচসহ বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। এসব সহশিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তিনি ৫ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নিতে হবে, তবে দেশের প্রতি দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে গিয়ে জ্ঞান অর্জন করলেও নিজের দেশ ও জন্মভূমির প্রতি টান ধরে রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার প্রশংসা করে আবদুস সালাম বলেন, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কথা শোনাও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। শিক্ষার্থীদের এমন শৃঙ্খলা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা এই এলাকায় বেশ কিছু সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সফল নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের গুণেই এলাকার শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে চমৎকার ফলাফল করছে এবং দেশে-বিদেশে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তিনি সত্যিকার অর্থেই আমাদের দেশের এক অমূল্য সম্পদ।


সম্পর্কিত খবর

;