ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থানে ঢাবি প্রশাসন, ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

প্রকাশ : 14 Sep 2026
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি, কর্মকাণ্ডে কঠোর অবস্থানে ঢাবি প্রশাসন, ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ ও পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।


সোমবার জনসংযোগ দফতরের উপ-পরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থান জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু সংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


১. ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে এবং গত ৫ আগস্ট মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। Dhaka University Order, 1973 এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের। কিন্তু ডাকসু কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে যে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, তা সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের কোনো অনুমতি বা আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে, যা এখতিয়ার বহির্ভূত।


২. সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি: ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।


৩. শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট: ডাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য অনুমোদন ছাড়া ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা ছাত্র সংসদ নিজ উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। এতে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে আনা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব Teaching Evaluation নীতিমালা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত ও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও তার সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে সমান্তরাল কাঠামো তৈরির চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।


সম্পর্কিত খবর

;