সুমন আদিত্য, জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারভূক্তসহ অজ্ঞাত আসামিদের আটকের পর ছেড়ে দেওয়াসহ মামলা-বাণিজ্যের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দেদারচ্ছে মামলা-বাণিজ্য করে যাচ্ছে ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ। এনিয়ে ফেসবুকে অনেকেই পোস্টও করেছেন। তবে অভিযুক্ত ওসির দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। বরং একটি কুচক্রী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলাখিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকাকে নীলাখিয়া বাজারে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে বকশীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সাইফুল ইসলাম খোকা বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও পুলিশ থানায় নিতে চাইলে, আমি শটকে পড়ি।'
গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাখিমারা গ্রামের ছানোয়ার হোসেন ছানুকে আটকের পর থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ছানু পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি।
থানা থেকে ছাড়া পাওয়া ছানোয়ার হোসেন ছানু বলেন, 'আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি কি না, সেটা জিজ্ঞাসা শেষে থানা থেকে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আমি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।'
গত ১১ ডিসেম্বর বিকেলে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নই মিয়ার হাট থেকে বকশীগঞ্জ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মতিউর রহমান এবং এএসআই আতাউর রহমান বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আক্রাম হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
আক্রাম হোসেন গত ১৬ নভেম্বর দায়ের করা রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ৪০ নম্বর একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
এছাড়া তিনি মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আনিছুর রহমান বাদী হয়ে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গত ২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৬৯ নম্বর আসামি।
দুইটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও ওইদিন রাত ৮টার দিকে আক্রাম হোসেনকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছেন ওসি।
বকশীগঞ্জ থানার এএসআই আতাউর রহমান বলেন, আক্রাম হোসেন নামে একব্যক্তিকে নই মিয়ার হাট থেকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তাঁকে কেনো থানায় আনা হয়েছিল, সেটা জানি না। আমাকে এএসআই মতিউর রহমান সেখানে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে ছিলো। বিষয়টি এএসআই মতিউর ভালো বলতে পারবে।' এএসআই মতিউর রহমান বলেন, 'বিষয়টি ওসি স্যার জানেন। স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।'
থানা থেকে ছাড়া পাওয়া আক্রাম হোসেন বলেন, 'থানা থেকে আমাকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে আমি নির্দোষ।'
মামলার বাদী আনিছুর রহমান বলেন, 'আসামি আক্রাম হোসেনকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে যোগাযোগ করলে ওসি সাহেব জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
গত ২৫ নভেম্বর পৌর শহরের চরকাউরিয়া সীমারপাড় এলাকার মৃত হাজি শেখ সাদি মাস্টারের ছেলে আওয়ামী লীগ কর্মী আবু রায়হানকে পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে গভীর রাতে তাঁকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। আবু রায়হান গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তর পূর্ব থানায় দায়ের করা ১০ নম্বর মামলার এজাহারভুক্ত ৪১ নম্বর আসামি। পৌর শহরের মিয়াপাড়া গ্রামের মকবুর শেখের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন পুনো বাদী হয়ে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ওই মামলাটি করেন।
মামলার বাদী তোফাজ্জল হোসেন পুনো বলেন, 'আসামি আবু রায়হানকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। থানা থেকে ছাড়া পেয়ে রায়হান এলাকায় ব্যবসা করছে।'
থানা থেকে আপনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আসামি আবু রায়হান বলেন, 'আমি খাইতে বসেছি। পরে কথা বলব।' এই বলেই ফোন কেটে দেন তিনি। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবেদ আলী, তুলন, মিজানসহ অনেকেই বলেন, 'থানায় পুলিশের হাতে আবু রায়হানকে আটক দেখেছি। পরদিন জানতে পারি, গভীর রাতে থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেল পারভেজকে সূর্যনগর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ২০ ডিসেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় নাশতার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
প্যানেল চেয়ারম্যান মির্জা সোহেল পারভেজের মুক্তির দাবিতে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে তাঁর স্ত্রী আলপনা বেগম বলেছেন, তাঁর স্বামী মির্জা সোহেল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সময় আসামিরা তাঁর স্বামীর মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে। অথচ ওই মামলায় তাঁর স্বামীকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয়রা বলেন, 'বকশীগঞ্জ থানায় যোগদানের আগে নেত্রকোণা মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন সেখানকার হাজার হাজার বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীকে গায়েবি মামলায় হয়রানি করেছেন খন্দকার শাকের আহমেদ। বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন। এখন বকশীগঞ্জে দেদারচ্ছে মামলা-বাণিজ্য করে যাচ্ছেন তিনি।
এবিষয়ে বকশীগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয়। আমার বিরুদ্ধে কুচক্রী মহল অপপ্রচার করা হচ্ছে। আইনানুসারেই কাজ করে যাচ্ছি। আপনি থানায় এসে কথা বলুন।'
দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইসলামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস বলেন, 'দায়িত্ব পালনে অনিয়মসহ গাফলতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে নির্দেশনায় তদন্ত সাপেক্ষে ওসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে এখনই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করো। আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি নীতি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। জীবাশ্ম জ্বালানি জলবা ...
পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবির উজ্জলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের ঢাকাইয়াপট্টি এলাকায় তার নিজ বাড়িতে অ ...
মহাসিন মিঞা লিটন, বরিশাল অফিস: বরিশাল নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে (বিসিসি) বর্জ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম দিয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন ...
খুলনা অফিস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে খুলনায় বিক্ষোভ ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে ...
সব মন্তব্য
No Comments