মোংলায় উপকূলীয় অভিযাত্রার সংহতি সমাবেশে বক্তারা

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে এখনই সৌর বিদ্যুত চালু করো

প্রকাশ : 17 Sep 2026
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে এখনই সৌর বিদ্যুত চালু করো

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ সুন্দরবন বিনাশী রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে এখনই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করো। আমদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি নীতি আমাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না। জীবাশ্ম জ্বালানি জলবায়ু পরিবর্তনকে তরান্বিত করে এবং একই সাথে পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক। কাজেই জ্বালানি সার্বভৌমত্ব'র স্বার্থে এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।  ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে মোংলার কানাইনগর পশুর নদীর পাড়ে "নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই" ক্যাম্পেইন কর্মসুচির উপকূলীয় অভিযাত্রার পদযাত্রা ও মানববন্ধন'র সংহতি সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন।  সাতক্ষীরার শ্যামনগরের 

পাঁচ নদীর মোহনা থেকে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ বার্তা নিয়ে হাঁটছেন মাসফিকুল হাসান টনি। হাটার তৃতীয় দিনে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেরে মোংলা পৌছালে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এ মানববন্ধন, পদযাত্রা ও সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে।


বুধবার বিকেল ৪টায় পদযাত্রা শেষে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ধরা'র কেন্দ্রীয় নেতা সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ।  এসময়ে বক্তব্য রাখেন কোস্টাল ট্রাভার্স মাসফিকুল হাসান টনি, জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ধরা নেতা নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, ইয়ুথ ফর সুন্দরবন'র মোঃ সোহেল, মোহাম্মদ শাহীন খলিফা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা'র ডলার মোল্লা, মেহেদী হাসান, বিডি ক্লিন'র আবু হাসান প্রমূখ। সভাপতির বক্তব্যে ধরা'র কেন্দ্রীয় নেতা পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ বলেন বিদ্যুৎ সংকটে দেশের ব্যবসা বাণিজ্যসহ জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। পরনির্ভরশীল আমাদানি নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে আমাদের পরামর্শ মোতাবেক সৌর বিদ্যুতে অর্থায়ন করলে আমাদের আজকে এই বিপদে পড়তে হতো না। তিনি আরো বলেন আমাদের চারিদিকে পানি থৈ থৈ করলেও খাবার পানি নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী। কাজেই সৌর বিদ্যুত চালু এবং জলবায়ু অভিযোজনে অর্থায়ন এখন সময়ের দাবি। উল্লেখ্য 

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই (Renewables Now)’ প্রচারাভিযানের বার্তা নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের উপকূল ধরে পদযাত্রা শুরু করেছেন মাসফিকুল হাসান টনি। জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে শুরু হওয়া এই ‘বাংলাদেশ কোস্টাল ট্রাভার্স’ শ্যামনগরের পাঁচ নদীর মুখ থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৯ দিন ধরে চলবে এই অভিযাত্রা। উপকূল ধরে হাটার এই অভিযাত্রা কক্সবাজারের টেকনাফ'র শাহপরীর দ্বীপে গিয়ে এই অভিযাত্রার শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বে ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘Renewables Now’ প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে মাসফিকুল হাসান টনি হাটছেন।


মাসফিকুল হাসান টনি ১৪ সেপ্টেম্বর  সাতক্ষীরার শ্যামনগরের  পাঁচ নদীর মুখ থেকে একক পদযাত্রা  শুরু করে কয়রার বেদকাশি দিয়ে পদযাত্রা অব্যাহত রাখেন। তিনি কালিঞ্চি, টেংরাখালী, মরাগাং, সুন্দরবন বাজার, হরিনগর, কুলতলী, মুন্সিগঞ্জ, কলবাড়ি ও নীলডুমুরিয়া হয়ে তিনি বেদকাশি ঘাটে পৌঁছান।

পথে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, নিরাপদ পানির সংকট, মাছের ঘের, বন ও জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন এবং জলবায়ু ঝুঁকির বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেন তিনি। একইসঙ্গে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিরাপদ পানির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন। কোথাও সৌর প্যানেল ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা যেমন দেখা গেছে, তেমনি কোথাও পানির তীব্র সংকটও উঠে এসেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসফিকুল হাসান টনির একক পদযাত্রাটি কয়রা, নলিয়ান, দাকোপ, বাণিশান্তা হয়ে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে  মোংলা পৌছান। মাসফিকুল হাসান মোংলা পৌছালে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানা বনজীবী, জেলে, বাওয়ালি-মাওয়ালি ও পরিবেশকর্মীরা। তার একক পদযাত্রা পিরোজপুর, পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, চরফ্যাশন, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, বাঁশখালী, কক্সবাজার, টেকনাফ অতিক্রম করে শাহপরীর দ্বীপে শেষ হবে বলে ধরা'র নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। 

সম্পর্কিত খবর

;