জাতীয় গ্রিডে দিনে আরো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু

প্রকাশ : 19 Sep 2026
জাতীয় গ্রিডে দিনে আরো ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস উৎপাদনের উদ্বোধনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, এই কূপ হতে জাতীয় গ্রিডে দিনে আরো ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হলো। এই কূপ উদ্বোধনের ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ আরো বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানিখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে আরো ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, দেশীয় কোম্পানিসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে গ্যাসের আমদানিনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব (শ্যামল) এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ১৫০টি কূপ খনন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ টি নতুন কূপ খনন এবং ৮টি বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যে বিজিএফসিএল এর ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া আরো ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ১২ টি বিদ্যমান কূপ ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা যায়। সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ হতে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব বলে আশা করা যায়। বিজিএফসিএল এর আওতাধীন এলাকা হবিগঞ্জ ফিল্ড ও তদসংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গ কিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা ফিল্ড এলাকায় ৫৭৫ বর্গ কিলোমিটারসহ মোট ১৪৫০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ৩-ডি সাইসমিক জরিপ; তিতাস ফিল্ডের উত্তর পশ্চিমে ও নরসিংদী ফিল্ডের উত্তর পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ২-ডি ও ৩-ডি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা ও প্রাপ্ত ফলাফল বিবেচনা করে উপযুক্ত প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে বিজিএফসিএল কর্তৃক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) এর আওতায় বর্তমানে ছয়টি গ্যাস ফিল্ড যথা- তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর কাছে হস্তান্তরের পূর্ব পর্যন্ত ফেনী গ্যাস ফিল্ড বিজিএফসিএল এর আওতাধীন ছিল। অত্র কোম্পানির আওতাধীন ফিল্ডসমূহে সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা, কূপ খনন, প্রসেস প্লান্টের মাধ্যমে গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ, ওয়েলহেড কম্প্রেসরের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, উপজাত হিসেবে কনডেনসেট সংগ্রহ ও বিপনন, গ্যাসের গুণগতমান বজায় রেখে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিজিএফসিএল মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ বা দেশের মোট সরবরাহের ১৮ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন করে। পর্যায়ক্রমে গ্যাস উৎপাদন আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।   

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির ক্রমাগত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কূপসমূহ খননের জন্য সমন্বিত খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান CNPC Chuanqing Drilling Engineering Company Ltd. (CCDC), China এর সাথে ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় তিতাস ২৮ নং কূপের খনন কার্যক্রম ১৫ ডিসেম্বর/২০২৫ শুরু হয়ে ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে ৩৬০১ মিটার (MD) বা ৩৪৭১ মিটার (TVD) গভীরতা পর্যন্ত খনন করা হয়। কূপটি হতে দৈনিক ১২-১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে। তিতাস-২৮ নং কূপটি সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০.০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কূপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ জিয়াউল হক, সচিব, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলা ও বিজিএফসিএল এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। 

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তিতাস-২৮ নং কূপের গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে চলমান তিতাস-২৯ ও তিতাস-৩১ কূপের খনন কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন। 


সম্পর্কিত খবর

;